প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 31, 2025 ইং
তাইওয়ানের জলসীমায় চীনের রকেট নিক্ষেপ

সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ উপকূলসংলগ্ন জলসীমার দিকে রকেট ছুড়েছে চীন এবং একই সঙ্গে দ্বীপটিকে অবরুদ্ধ করার অনুশীলনে নতুন উভচর যুদ্ধজাহাজ, বোমারু বিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে। মঙ্গলবার নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত এই মহড়ার দ্বিতীয় দিনে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত লাইভ–ফায়ারিং চলবে, যার প্রভাবে তাইওয়ানের আশপাশের পাঁচটি আকাশ ও সমুদ্রাঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে অজ্ঞাত স্থান থেকে সমুদ্রে রকেট নিক্ষেপ করতে দেখা যায়, যা স্থানান্তরযোগ্য পিসিএইচ–১৯১ রকেট লঞ্চার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বীপটির উত্তরে সরাসরি গোলাবর্ষণের অনুশীলনের ফলে ধ্বংসাবশেষ ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরের সীমান্ত অঞ্চলে পড়ে, যদিও অন্যান্য এলাকায় রকেট নিক্ষেপের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। চীনা সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তাইওয়ানের চারপাশে সাবমেরিনবিধ্বংসী প্রতীকী হামলাও চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড ১ হাজার ১০১ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণা করার পরই ‘জাস্টিস মিশন–২০২৫’ নামের এই মহড়া শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত দ্বীপটির সবচেয়ে কাছাকাছি পরিচালিত চীনা সামরিক অনুশীলন। তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, বেইজিং সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মতো স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের প্রশিক্ষণ দিতেই এ মহড়া করছে। চীনের পিসিএইচ–১৯১ দীর্ঘপাল্লার রকেট ব্যবস্থা হিমার্সের সমতুল্য এবং তাইওয়ানের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে। এ পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দ্বীপ রক্ষায় প্রস্তুত থাকলেও তাইপে উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব মহড়ায় বাস্তবতা ও সাহসিকতা ক্রমেই বাড়ছে, তবে অস্ত্র কেনার প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানের জন্য টেকসই সমাধান নাও হতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD